ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আট জোনে বিভক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের
রাজধানীর যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে নতুন নীতিমালা রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ানো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাগাম টানতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকা শহরকে আটটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক জোনে ভাগ করে এই রিকশাগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না এবং প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং, ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হবে। অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বর্তমানে ঢাকা শহরে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যার কোনোটিরই বৈধ নিবন্ধন নেই। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব রিকশা ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টোপথে চলাচল, সিগন্যাল অমান্য করা এবং ভিআইপি সড়কে চলাচলের কারণে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে রিকশা চার্জ করায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় ও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবেই এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নীতিমালার মূল দিকসমূহ সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি এলাকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। অবৈধ গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতা বন্ধ করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব সোলার চার্জিং হাব স্থাপন করা হবে। এছাড়া, বুয়েটের মাধ্যমে যানবাহনের মান যাচাই করে সার্টিফিকেট প্রদান এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, যানবাহনের মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চলাচলের সীমা নির্ধারণে দ্রুত নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে