রাজধানীতে অবৈধ অটোরিকশার বিস্তার: সরকারের ঘোষণা, পুলিশের নিয়মিত অভিযান এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাজধানীজুড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে গড়ে ওঠা ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজে প্রকাশ্যে তৈরি হচ্ছে এসব যান। কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিদিনই সড়কে যুক্ত হচ্ছে শত শত নতুন অটোরিকশা, যা যানজট ও বিদ্যুৎ অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা: হাজারীবাগ, রায়েরবাজার, গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, লেদ মেশিনের সাহায্যে বিশেষ বডি তৈরি করে মোটর ও ইলেকট্রনিক পার্টস সংযোজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অটোরিকশা তৈরি করা হচ্ছে। নৌকা, পালকি ও মিশুক মডেলের এসব অটোরিকশা ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ওয়ার্কশপ মালিকদের দাবি, স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এসব যানের চাহিদা ব্যাপক হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। শুধু ঢাকা নয়, এখান থেকে ট্রাকভরে অটোরিকশা দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামেও পাঠানো হচ্ছে।
বিদ্যুৎ অপচয় ও অবৈধ চার্জিং স্টেশন: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে। মিরপুর, ওয়ারী, গুলশানসহ বিভিন্ন ডিভিশনে এসব গ্যারেজের সংখ্যা উদ্বেগজনক। প্রতিটি গ্যারেজে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা চার্জ দেওয়া হয়। একটি রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও মন্ত্রণালয় থেকে ৩ হাজার ৩০০টি চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে অবৈধ স্টেশনের সংখ্যা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
কার্যকর পদক্ষেপের অভাব: সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। সরকার বুয়েটের সহায়তায় নির্দিষ্ট কারিগরি মান ও নকশা অনুযায়ী যান তৈরির উদ্যোগ নিলেও চালকদের আন্দোলনের মুখে তা থমকে আছে। ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম জানিয়েছেন, সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে, ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ অটোরিকশা ডাম্পিং করা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সরকারের নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।