রাজনীতি
মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল: মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৬: সরকারের ছয় মাস পূর্তির প্রাক্কালে মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভায় তিনজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীর পদোন্নতি, একজনের দপ্তর বদল এবং একজনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার বর্তমান সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। রদবদল ও মন্ত্রিসভার বর্তমান কাঠামো: নতুন রদবদলের পর মন্ত্রিসভায় এখন ২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন মন্ত্রীর এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের রদবদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর অধীনে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য একে সরকারের কাজের গতি বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন: মন্ত্রিসভার এই সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট মন্ত্রণালয়গুলোতেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার উপস্থিতি এবং বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজনের হাতে ন্যস্ত রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার বার্তার বিপরীতে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধি পাওয়া নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যায়ন
মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা ও নতুন করে সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টনের বর্তমান চিত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন সদস্য যুক্ত হওয়া এবং এক প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতির পর মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে ১০ জন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তিনজন বিশেষ সহকারী রয়েছেন, যাদের পদমর্যাদা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সমান। মন্ত্রিসভার নতুন এই বিন্যাসে দেখা গেছে, কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি উপদেষ্টাও রয়েছেন, আবার কোথাও মন্ত্রী একাই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। সাধারণত কোনো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকার নজির থাকলেও, একই মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী থাকার ঘটনাটি বেশ বিরল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরকে দ্বিতীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দপ্তর বণ্টনের এই অসামঞ্জস্যের মধ্যে পাঁচটি মন্ত্রণালয়ে একাধারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন। এছাড়া দুটি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি বিশেষ সহকারীও দায়িত্ব পালন করছেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিন দায়িত্ব পালন করছেন। মাহদী আমিন একই সঙ্গে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বেও রয়েছেন। কাজের পরিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়
ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, স্বাস্থ্য খাতে আসছে ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম
ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এই রুটটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যাতায়াত সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা একই দিনে স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন এই প্ল্যাটফর্মে রোগীর স্বাস্থ্য তথ্য নিরাপদ থাকে এবং সাধারণ মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে এর পরিধি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লি
হেয়ার রোডের বাসভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আগামীকাল উঠবেন বঙ্গভবনে
শপথ গ্রহণের পর প্রথম সরকারি কর্মসূচি শেষে হেয়ার রোডের বাসভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণের পর প্রথম সরকারি কর্মসূচি পালন শেষে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে ফিরেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি এই বাসভবনে পৌঁছান। এর আগে সকাল ১০টায় তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে হেয়ার রোডের বাসভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাসভবনের ভেতরে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ভবনের প্রবেশমুখ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী রোববার তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠবেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বর্তমান সংসদের ৩৪৩ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই তিনি রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ করেন।