বাংলাদেশ
হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা: মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত, ক্লিনিক সিলগালা
বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গত কয়েক দিনে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি নানা অনিয়মের প্রমাণ পান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে কয়েক লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং অব্যবহৃত টয়লেটে স্যালাইন ও সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় হাসপাতালের পাশেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) কামাল হোসেন মুফতির ব্যক্তিগত ক্লিনিক পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ওই ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয় এবং সোমবার কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল পরিদর্শনের সময়ও মন্ত্রী বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করেন। কর্মস্থলে দীর্ঘদিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার দায়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাওলী নানজিবা তন্নি এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোহানা সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসি চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মীকেও বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ওষুধের স্টোর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে সেবা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর
৩২ যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁকে অবসরে পাঠাতে পারে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবসর সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
রাজধানীতে যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যা: চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
আদালতে স্বীকারোক্তি ও কারাগারে প্রেরণ রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদার হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জিয়ারুল মোল্লা শুরুতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরে তা থেকে সরে আসেন। তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াজেদ আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রায়হান হোসাইন সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড ও কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত 'শুটার' চঞ্চল মোল্লাকে গত ২৫ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। চঞ্চল মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত রোববার অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে কাফরুলের ১৩ নম্বর শেরেবাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবুসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউসুফ আলীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তা তার বুকে বিদ্ধ হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা বালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেনও আহত হন। স্থানীয়রা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গে
খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবুর’ তিন সহযোগী গ্রেপ্তার
খুলনায় পুলিশের অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবুর (গ্রেনেড বাবু) তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নগরীর ৩ নম্বর কাশেম সড়কের বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান মিথুন (২৮), বসুপাড়া এতিমখানা মোড়ের বাসিন্দা টিপু হাওলাদার (২৯) এবং খালিশপুর থানা পলিটেকনিক কলেজ মোড়ের বাসিন্দা এনামুল হক ইমন (২০)। খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শেখ আসাদুজ্জামান মিথুন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর একান্ত সহযোগী। তাঁকে নগরীর রূপসা ঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিথুনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরের পর গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।