বাংলাদেশ
ট্রেনের টিকিট উধাও: সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা, তদন্তে পিবিআই
সিলেট ও ঢাকা ব্যুরো: সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আদালত। টিকিট কালোবাজারি ও মজুতদারির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান এই মামলাটি (আমলি-১১) দায়ের করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রেলের ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়ার পরপরই তা উধাও হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ যাত্রীদের টিকিট না পাওয়ার বিষয়টি একটি সুপরিকল্পিত সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত দেয়। আদালত মনে করেন, টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহায়তায় একটি চক্র মুহূর্তের মধ্যে সব টিকিট কিনে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে, যা সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের বিকাশেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ জানান, ১ অক্টোবর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ফুল ডেটা নিয়ে কাজ করছি। এটি একটি বিশাল সিন্ডিকেট। আমরা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ এদিকে, ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার আশফাক নিপুন। তিনি ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, অনলাইনে টিকিট কাটার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। একজন সাধারণ যাত্রীর পক্ষে সব তথ্য পূরণ করে টিকিট নিশ্চিত করতে অন্তত ৬-৭ মিনিট সময় লাগার কথা। অথচ
এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
রাজধানীতে চুক্তি স্বাক্ষর ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। উড়োজাহাজের ধরন ও সময়সীমা চুক্তির আওতায় বিমান চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং সরু কাঠামোর এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। তবে এই ক্রয়ের আর্থিক মূল্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বর্তমানে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ যাত্রী বিমান ব্যবহার করেন, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, সঠিক নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পিপিপি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো পক্ষকে খুশি করতে নয়, বরং দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক যৌক্তিকতার ভিত্তিতেই এই চুক্তি কর
বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকল্যাণমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত: রণধীর জয়সোয়াল
পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পারস্পরিক সমৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণই হবে মূল প্রতিপাদ্য। বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলাই ভারতের মূল লক্ষ্য। সফর ও প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সোয়াল সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের দৃষ্টি এখন দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক সম্পর্কের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে অবস্থান শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারের নথি ভারত পেয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও মুখপাত্র সরাসরি উত্তর দেননি। তিনি কেবল এটুকু জানান যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়টি একটি আইনগত প্রশ্ন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই আইনি দিকগুলোও প্রাসঙ্গিক বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের রিকশা পেইন্টিংকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ইউনেস্কো ও উইন্ডমিলের সমঝোতা চুক্তি
ঐতিহ্যবাহী রিকশাচিত্রের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রিকশা পেইন্টিংকে বিশ্বমঞ্চে আরও মর্যাদাপূর্ণভাবে তুলে ধরতে ইউনেস্কো এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার ঢাকায় ইউনেস্কোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। ইউনেস্কোর পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ এবং উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের পক্ষে প্রধান কৌশলগত পরিকল্পনাবিদ সুমন পাটওয়ারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় স্থান পায়। এই স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় শিল্পীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এবং রিকশাচিত্রের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সুরক্ষায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করবে। এই অংশীদারত্বের আওতায় ‘রিকশা পেইন্টিং: এক্সপ্যান্ডিং দ্য ক্যানভাস’ শীর্ষক একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রিকশাচিত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্প্রসারণ এবং বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে শিল্পীদের সংযোগ স্থাপন করা। এছাড়া প্রদর্শনী ও প্রচারণার মাধ্যমে এই শিল্পধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ রিকশাচিত্রকে একটি ‘জীবন্ত ঐতিহ্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শিল্পীদের জীবন ও জীবিকায় সহায়তা করাই এই অংশীদারত্বের মূল উদ্দেশ্য। উইন্ডমিল অ্যাডভার্টাইজিংয়ের সুমন পাটওয়ারী জানান, সৃজনশীল যোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে রিকশাচিত্রকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো ঢাকার সংস্কৃতি প্রধান কিযী