বাংলাদেশ

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বিতরণে অব্যবস্থাপনায় সংকট: তদারকিতে মন্ত্রিসভা কমিটি

সরকারের গুদামে সার আছে, সমস্যা বিতরণে

সার পরিস্থিতি ও সরকারি উদ্যোগ

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ও নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। কিছু ডিলার বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন না করায় স্থানীয় পর্যায়ে সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে।

সার নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করবে মন্ত্রিসভা, তিন সদস্যের কমিটি গঠন

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সার উত্তোলন, বিতরণ ও ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মাঠপর্যায়ে অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার ডিলার সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমাম জানান, অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং ভর্তুকির সার কালোবাজারে বিক্রি করছেন।

অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজশাহী ও যশোরে বেশ কয়েকজন ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায়ে জেলা পর্যায়ের তিন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে এবং একজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সারের জন্য সরকার নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানে কৃষকের ভিড়। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ইমামগঞ্জ এলাকায়
সারের জন্য সরকার নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানে কৃষকের ভিড়। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ইমামগঞ্জ এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হক মনে করেন, এই সংকট প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে সরবরাহ-চেইনের ত্রুটির কারণে বেশি হচ্ছে। তিনি জানান, অনেক ডিলার এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে লাইসেন্স নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। সংকট নিরসনে তিনি ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, কঠোর শাস্তির প্রয়োগ এবং বিকল্প বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন।

সরকারের গুদামে সার আছে, সমস্যা বিতরণে

উল্লেখ্য, আগস্ট মাস আমন ধানের মৌসুম হওয়ায় সারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, গাজীপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় আগস্ট মাসের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত ডিলারদের সার উত্তোলনের হার ছিল বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম।