ভিডিও
শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ১২ দিনের মাথায় সাফারি পার্কে ফিরল ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’
গাজীপুর: জিম্মার শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের দুটি হাতিকে পুনরায় গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হাতি দুটিকে দেখভালকারীদের কাছে হস্তান্তরের মাত্র ১২ দিনের মাথায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে বন বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় ‘নিহারকলি’ এবং সকাল ১০টায় ‘সম্রাট’কে খোলা ট্রাকে করে সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়। পার্কে পৌঁছানোর পর বন্য প্রাণী চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হাতি দুটিকে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে দুই বছর আগে হাতি দুটিকে উদ্ধার করে পুনর্বাসনের জন্য সাফারি পার্কে রাখা হয়েছিল। তবে গত ৬ ও ৭ আগস্ট পার্কে দুটি হাতি মারা যাওয়ার পর, ১২ আগস্ট তড়িঘড়ি করে হাতি দুটিকে মুচলেকা নিয়ে দেখভালকারীদের জিম্মায় দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, হাতিগুলোকে কোনোভাবেই নির্যাতন বা চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ঢাকা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানান, দেখভালকারীরা মুচলেকায় দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রীর নজরে বিষয়টি আসার পর তার নির্দেশে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুড়ী এলাকা থেকে হাতি দুটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে ‘সম্রাট’ হাতির দেখভালকারী মনির মিয়া শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বন বিভাগ চাওয়ামাত্রই তিনি হাতি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এদিকে, হাতি দুটি ফিরিয়ে আনার পর সাফারি পার্কে আবাসন ও লোকবল সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানান, পর্যাপ্ত মাহুত ও অবকা
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী ও উপদেষ্টা
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে কোনো ধরনের বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি হোক—এমন মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কোনো বিষয়ে বাধা সৃষ্টি হোক, এমন চিন্তা আমরা করি না। কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই সরকার সহযোগিতা করছে না—বিষয়টি এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যু থাকতে পারে। বর্তমানে দেশে বড় বড় অনেক কনসার্ট নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নাটকীয় (ড্রামাটিক্যালি) উন্নতি হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব ফারজানা মাহবুব এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ, রাখাইনে ফেরার আকুতি
নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক বাহিনীর গণহত্যা ও জাতিগত নিপীড়নের নয় বছর পূর্তিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশাল সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে ‘নাইন ইয়ারস গন, টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবির থেকে লাখো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান। প্রত্যাবাসনের দাবি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, নয় বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজন হারানোর বেদনা ও নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ইউসিআর নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। আরকান আমাদের, আমরা আরকানের—এই সত্যটি মানবিক বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।’ ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নয়, প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’ এছাড়া মাস্টার শোয়েব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়াই নিজ ভিটেমাটিতে ফিরতে পারে। স্মরণ ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ২৫ আগস্ট দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ক্যাম্পে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজ
দুই দিনে ‘ঘুষ.সাইট’-এ ৮ শতাধিক অভিযোগ, ঘুষের দাবি ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার
সরকারি সেবায় ঘুষের অভিজ্ঞতা জানাতে চালু হওয়া ওয়েবসাইট ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)-এ চালুর প্রথম দুই দিনেই ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ঘুষ হিসেবে চাওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত ২১ আগস্ট সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ নামের দুই বন্ধুর উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়। বিদেশের একটি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতাগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে কোন দপ্তর বা সেবায় ঘুষের প্রবণতা বেশি, তার একটি চিত্র তুলে ধরতে চান উদ্যোক্তারা। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, বিভাগভিত্তিক অভিযোগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা (৪৩০টি)। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৭টি, রাজশাহীতে ৪৪টি, খুলনায় ৪৩টি, সিলেটে ৩৮টি, রংপুরে ৩৭টি, ময়মনসিংহে ৩০টি এবং বরিশালে ১৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীরা নাম-পরিচয় গোপন রেখে এই ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় না। অভিযোগের ক্ষেত্রে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষের পরিমাণ এবং ঘটনার ফলাফল উল্লেখ করতে হয়। তবে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার নাম, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করা নিষিদ্ধ। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা আক্রমণাত্মক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সীমাবদ্ধতা ও উদ্দেশ্য উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ওয়েবসাইট কোনো তদন্ত সংস্থা নয় এবং এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্পও নয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাইহীন শব্দটি যুক্ত থাকে। অর্থাৎ, এখানে জমা পড়া তথ্যগুলো কোনো