খেলা
দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারল বাংলাদেশ 'এ' দল
প্রিটোরিয়ায় বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ 'এ' দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চার দিনের প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে স্বাগতিক 'এ' দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ 'এ' দল। প্রিটোরিয়ার এলসি ডি ভিলিয়ার্স ওভালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র তিন দিনেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে সফরকারীদের। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে শাহাদাত হোসেন ২৩ ও মাহমুদুল হাসান জয় ১৯ রান করলেও বড় কোনো জুটি গড়তে ব্যর্থ হন। স্বাগতিক বোলারদের মধ্যে গেরাল্ড কোয়েটজি ৩১ রানে ৩টি এবং কোডি ইউসুফ ও শেপো মোরেকি ২টি করে উইকেট শিকার করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দল রানের পাহাড় গড়ে। অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যান ২৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সিনেথেম্বা কেশিলে অপরাজিত ২০০ রান করেন। এছাড়া জুবায়ের হামজা ৭৮ ও গ্যাভিন কাপলান ৩৮ রান করলে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে ৬৪৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের পক্ষে আনামুল হক ৯৮ রানে ৩টি এবং নাঈম হাসান ১টি উইকেট নেন। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩২.২ ওভারে ১১২ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ নাঈম সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন এবং এনামুল হক ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক বোলার ইউসুফ, মোরেকি ও পটগেইটার তিনটি করে উইকেট লাভ করেন। জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ 'এ' দলের এমন ব্যাটিং ব্যর্থতা ম্যাচটিতে বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।
কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু
রাজধানীতে শুরু হলো কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) আয়োজনে এবং ‘কিউট’ ব্র্যান্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে ‘কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬’। হোম অব বিএসপিএ’তে ক্যারাম ইভেন্টের মধ্য দিয়ে এই ক্রীড়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) ও জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী এবং কিউটের নির্বাহী পরিচালক মিসেস আসমা আশরাফী সাকলাইন। এবারের আসরে বিএসপিএ’র শতাধিক সদস্য মোট ৮টি ইভেন্টের ১২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে— আর্চারি, ক্যারম (একক ও দ্বৈত), টেবিল টেনিস (একক ও দ্বৈত), দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স (১০০ মিটার ও শটপুট), কার্ড গেম (কলব্রিজ ও টোয়েন্টি নাইন) এবং শুটিং। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ভেন্যুতে এই খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ স্বাগত বক্তব্যে ক্রীড়া কার্নিভালের রোমাঞ্চ উপভোগ করার আহ্বান জানান এবং সরকার ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে জাহেদ পারভেজ চৌধুরী সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মিসেস আসমা আশরাফী খেলাধুলার উন্নয়নে কিউটের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিএসপিএ’র যুগ্ম-সম্পাদক ফয়সাল তিতুমীরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক মল্লিক ও মো. সামন হোসেন, আজীবন সদস্য সেলিম নজরুল হক, অর্থ সম্পাদক শাহজাহান কবির, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান উদ্দিন রাসেল এবং ক্রীড়া উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল আলমসহ সংগঠনের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে শরীফুলের পরিবর্তে ডাক পেলেন সৈয়দ খালেদ
কাউন্টি ক্রিকেটে নতুন বাংলাদেশি মুখ সৈয়দ খালেদ ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। কেন্ট ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। মূলত বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের পরিবর্তে ডানহাতি এই পেসারকে বেছে নিয়েছে দলটি। এর আগে কেন্ট কর্তৃপক্ষ চলতি মৌসুমের চারটি ম্যাচের জন্য শরীফুলকে চেয়েছিল, তবে খেলোয়াড়ের ওয়ার্কলোড বা কাজের চাপ বিবেচনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় খালেদকে দলে ভেড়ায় কেন্ট। এর আগে কেন্টের হয়েই হাসান মাহমুদ দুই ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের অতীত ইতিহাস সৈয়দ খালেদের আগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওস্টারশায়ার ক্লাবের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। পরবর্তীতে ২০১১ সালেও তিনি একই ক্লাবের হয়ে খেলেন এবং ২০২৪ সালে সারে কাউন্টি ক্লাবের হয়ে একটি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দেন। সাকিবের পর ২০১১ সালে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হন ওপেনার তামিম ইকবাল, যিনি ফ্রেন্ডস লাইফ টি-২০ ব্ল্যাস্টে ৫টি ম্যাচ খেলে ১০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে সাসেক্সের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপে অংশ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক ম্যাচেই এসেক্সের বিপক্ষে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি নজর কাড়লেও ইনজুরির কারণে পুরো আসর শেষ করতে পারেননি। এছাড়া মোহাম্মদ আশরাফুল, এনামুল হক জুনিয়র, ইমরুল কায়েস এবং শামসুর রহমানের মতো ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ‘মাইনর কাউন্টি’ বা লোয়ার টায়ার ক্রিকেট লিগে খেলার
ম্যাকাই টেস্টের উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সমালোচনা করলেন সুনীল গাভাস্কার
ম্যাকাই টেস্টের উইকেট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন গাভাস্কার ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাস্কার ম্যাকাই টেস্টের উইকেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে বিব্রতকর হারের পর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সুবিধার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুতগতির ও অতিরিক্ত বাউন্স-সম্পন্ন পিচ তৈরি করেছিল। স্পোর্টস্টারে লেখা এক কলামে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। সংক্ষিপ্ততম টেস্ট ও পিচের প্রকৃতি ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টটি মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হয়, যা টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হয় এবং অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫১ রানে জয়লাভ করে। গাভাস্কারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত কয়েক বছরে দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঘটনা চারবার ঘটলেও, এসব পিচের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা শোনা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, অস্ট্রেলিয়া বরাবরের মতোই দাবি করবে যে গ্রাউন্ডসম্যান নিজের ইচ্ছায় পিচ তৈরি করেছেন, যদিও বাস্তবে এটি ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল। দ্বিমুখী নীতি ও ভণ্ডামির অভিযোগ গাভাস্কার তার কলামে ভারতীয় ক্রিকেট ও উপমহাদেশের পিচ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত নিজেদের বোলিং শক্তির উপযোগী উইকেট চাইলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, অথচ পুরনো পরাশক্তিরা গোপনীয়তার আড়ালে একই কাজ করলেও তা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হয় না। তিনি এই আচরণকে ‘নগ্ন ভণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া, স্পিন ও পেস বোলিংয়ের বিচারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। ম্যাচ রেফারির ভূমিকা নিয়ে সংশয় ম্যাচ রেফারির রেটিং নিয়েও গাভাস্কার সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, পুরনো পরাশক্তির মিডিয়ার বাহবা পাওয়ার আশায় র