অর্থনীতি
দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ২২১৬ টাকা বৃদ্ধি
দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই বাজুস সোনার দাম কমিয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৬৬৫ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানের নির্ধারিত দাম সেই সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে ৬২ হাজার ৯২৬ টাকা কম। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে সোনার দামের সামান্য ওঠানামা থাকলেও স্থানীয় বাজা
১৪ ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৭৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: পি কে হালদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ
বাস্তবে অস্তিত্বহীন ১৪টি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ২৩টি পৃথক ঋণের মাধ্যমে ৪৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি টিম এই জালিয়াতির অনুসন্ধান করছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে পি কে হালদারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ১৪টি পৃথক মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হবে। পি কে হালদার ২০১৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে এসব ঋণ অনুমোদন করানো হয়। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে, কাগজ-কলমে তাদের কার্যালয় ও নিবন্ধন থাকলেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। আত্মসাৎ করা ঋণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—পদ্মা ওয়েভিং লিমিটেডের নামে ৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথকেয়ার লিমিটেডের নামে ৫৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, পি অ্যান্ড এল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সুপিরিয়র টেক্সটাইল লিমিটেডের নামে ৪২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এছাড়া রেপটাইলস ফার্মা, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্রসরোড করপোরেশন, ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স, এমওএইচ ফ্যাশন, শাহাদাত ট্রেডার্স, জেড এ অ্যাপারেলস, সিমটেক্স টেক্সটাইল, এম জে ট্রেডিং এবং সন্দীপ করপোরেশনের নামেও বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্
মুদ্রানীতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঘোষণার প্রস্তাব, ইতিবাচক সাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের
ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির প্রস্তাব বর্তমানে দেশে ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে তা তিন মাস পর পর বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত। প্রস্তাবটির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, তিন মাস পর পর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা ও ঘোষণা করা উচিত এবং এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংসদীয় কমিটির বৈঠক ও আলোচনা কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুদ্রানীতির বর্তমান কাঠামো ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন সময়সীমার বিষয়টি উঠে আসে। তবে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত সুপারিশ ঘোষণা করা হয়নি। অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও আধুনিকায়ন বৈঠকে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রানীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তর প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনকে আরও আধুনিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক উদীয়মান অর্থনীতি সফলভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ইসলামি ব্যাংকি
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কাঠামো পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংকের
ঢাকা: দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি কাঠামো থেকে সরে এসে ‘মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যভিত্তিক’ নতুন মুদ্রানীতি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই রূপরেখা তুলে ধরেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মুদ্রানীতি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য মুদ্রানীতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সুদের হার বাড়িয়ে বা কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য মূল্যস্ফীতিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে মুদ্রানীতি পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। তবে শুধু সুদের হার নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিনিময় হার ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের ওপরও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা উচ্চ সুদের হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল