অর্থনীতি

মুদ্রানীতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঘোষণার প্রস্তাব, ইতিবাচক সাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের

সংসদীয় কমিটির বৈঠক: মুদ্রানীতি হতে পারে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে

ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতির প্রস্তাব

বর্তমানে দেশে ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে তা তিন মাস পর পর বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত। প্রস্তাবটির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, তিন মাস পর পর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা ও ঘোষণা করা উচিত এবং এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক ও আলোচনা

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুদ্রানীতির বর্তমান কাঠামো ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন সময়সীমার বিষয়টি উঠে আসে। তবে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা চূড়ান্ত সুপারিশ ঘোষণা করা হয়নি।

অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও আধুনিকায়ন

বৈঠকে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রানীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তর প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনকে আরও আধুনিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের অনেক উদীয়মান অর্থনীতি সফলভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।

ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে উদ্বেগ

বৈঠকে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম ইসলামি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনের (এক মাসে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। জবাবে গভর্নর জানান, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং কার্যক্রম ইসলামি ধারায় পরিচালিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সেবার চাহিদা প্রায় ৬০ শতাংশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়বদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।