বিনোদন
লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু ও ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্বের প্রস্তুতি
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি লক্ষ্মীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চৌধুরী রুবেল (৩০/৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট সড়কে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে একটি দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার ফারুক হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক বাহার উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের করিতলা এলাকায় আরও একটি ট্রাক সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। লক্ষ্মীপুরে ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্ব এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার খবরের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর জেলাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্বের ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটনকে তুলে ধরতে লক্ষ্মীপুর সদরের শতবর্ষী দালাল বাজার নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল। হানিফ সংকেতের রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় এই পর্বে থাকছে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্য, এবং লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদারের বিশেষ সাক্ষাৎকার। অনুষ্ঠানটিতে লক্ষ্মীপুরের সয়াবিন চাষ, নারিকেল-সুপারি বাগান এবং স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে তথ্যভি
দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পোস্ট দিয়ে লাখো অনুসারী হারালেন অভিনেত্রী পার্ল মানি
বিতর্কের মুখে পার্ল মানি ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মালয়ালম অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপক ও ইনফ্লুয়েন্সার পার্ল মানি। এই পোস্টের জেরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রায় ৩ লাখ অনুসারী কমেছে। ২৭ লাখ অনুসারী থেকে সংখ্যাটি নেমে এসেছে প্রায় ২৪ লাখে। এছাড়া ফেসবুক ও ইউটিউবেও তিনি অনুসারী হারিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পোস্ট ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া গত ২৪ জুলাই পার্ল মানি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আন্দোলনকে ‘বেদনাদায়ক’ ও ‘হৃদয়বিদারক’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি লেখেন, ‘কোনো আন্দোলনই একটি প্রাণের চেয়ে মূল্যবান নয়।’ যদিও তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানান, কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকে সংবেদনশীল সময়ে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করেন। নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেন যে, অভিনেত্রী বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পার্ল মানি তাঁর ওই পোস্টের কমেন্ট সেকশন বন্ধ করে দেন। পাল্টা বিতর্ক ও নির্মাতা জো মালয়িলের জবাব সমালোচনা বাড়তে থাকলে পার্ল মানি আরেকটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নাম উল্লেখ না করে এক ‘ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা’কে কটাক্ষ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মালয়ালমের খ্যাতিমান নির্মাতা সিবি মালয়িলের ছেলে জো মালয়িল পাল্টা স্টোরি দিয়ে অভিনেত্রীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পার্লের ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিয়ে লেখেন, ‘যে ব্যর্থ নির্মাতার কথা বলছেন, তিনি আমার বাবা। যেহেতু আপনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত করেছেন, তাহলে খেলা শুরু হোক।’ পা
সহকর্মীর মায়ের চিকিৎসার জন্য মঞ্চনাটকের আয়োজন করলেন কাজী নওশাবা
গাজীপুরে মানবিক উদ্যোগ ক্যানসারে আক্রান্ত সহকর্মী ও মঞ্চকর্মী ক্যামেলিয়া শারমিনের মায়ের চিকিৎসার তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন অভিনেত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী কাজী নওশাবা আহমেদ। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর আয়োজনে গত ২৫ জুলাই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। ২০১৮ সাল থেকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা এই সংগঠনটি মূলত ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই নাটক ও গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নওশাবা জানান, থিয়েটার তাঁকে বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষাই দিয়েছে। মঞ্চ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যস্ততা দীর্ঘ আট বছর ধরে টেলিভিশন ও সিনেমার পাশাপাশি মঞ্চনাটক নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন নওশাবা। তিনি এখন পর্যন্ত ‘ত্রিবেনী’ ও ‘মুক্তি আলোয় আলোয়’সহ পাঁচটি নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এখন চলচ্চিত্র নির্মাণেও মনোযোগী হয়েছেন। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’ নির্মাণের পর এখন নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন। তবে প্রযোজক সংকটকে তিনি কাজের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ভবিষ্যতে গান নিয়েও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। প্রকৃতিপ্রেম ও ক্যারিয়ার ভাবনা নওশাবার প্রতিটি সৃজনশীল কাজে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করতে তিনি তাঁর প্রতিটি আয়োজনে গাছ উপহার হিসেবে নিয়ে যান। অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি বেছে বেছে কাজ করতে পছন্দ করেন। নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’ সিরিজের ‘অন্তরা’ গল্পটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এছাড়া সাদত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ক্যামেরার সামনে ফেরার
স্কুলজীবনের ভয়াবহ বুলিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেতা ইয়াশ রোহান
শৈশবের তিক্ত স্মৃতিচারণ টেলিভিশন, বড় পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সফল অভিনেতা ইয়াশ রোহান সম্প্রতি তাঁর স্কুলজীবনের এক ভয়াবহ ও ট্রমাটিক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জানান, স্কুলজীবনে তিনি নিয়মিত বুলিংয়ের শিকার হতেন, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে। বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কারণ ও প্রেক্ষাপট নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইয়াশ বলেন, শারীরিক গঠনগত কারণে—বিশেষ করে অন্যদের তুলনায় খাটো হওয়া এবং চেহারার দিক দিয়ে অপরিণত হওয়ার কারণে তাঁকে নিয়মিত বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হতো। অভিনেতা জানান, বুলিংয়ের পেছনে সবসময় নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না, তবে সেই সময় তিনি নিয়মিত ক্লাসে ও স্কুলে সহপাঠীদের দ্বারা নিগৃহীত হতেন। সচেতনতার অভাব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট ইয়াশ রোহান উল্লেখ করেন যে, তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, তখন বুলিংয়ের বিষয়টি নিয়ে সমাজে কোনো সচেতনতা ছিল না। এমনকি এটি যে বুলিং, তা বোঝার মতো পরিস্থিতিও তখন ছিল না। তবে বর্তমান সময়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বুলিং নিয়ে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে যে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অভিনয় জীবনে সাফল্য ও ব্যক্তিগত পরিচয় ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক করা ইয়াশ রোহান পরবর্তীতে ‘পরাণ’সহ অসংখ্য নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অভিনয়ের পরিবারে বেড়ে ওঠা ইয়াশের বাবা নরেশ ভূঁইয়া ও মা শিল্পী সরকার অপু—উভয়েই দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। কর্মজীবনে সফল হলেও, স্কুলজীবনের সেই তিক্ত স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে জানান এই অভিনেতা।