আন্তর্জাতিক
পারমাণবিক অস্ত্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির আপডেট
ভারতে পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন সুইডেনের প্রতিরক্ষা নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। এতদিন ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলোর ডেলিভারি সিস্টেম আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে আসলেও, বর্তমান পদক্ষেপ দেশটির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিপ্রি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। নতুন মোতায়েন করা এই ওয়ারহেডগুলো সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং পারমাণবিক সাবমেরিনভিত্তিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। তবে ভারত এখনও তাদের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিতে অটল রয়েছে। ভারত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান উপকূলীয় পাঁচটি স্থানে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের কৌশলগত নথির ভিত্তিতে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেও বুশেহর কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বাংলাদেশ-রাশিয়া পারমাণবিক সহযোগিতা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মস্কোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন ‘রসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন ঝুঁকি
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই ঘটনার জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি, জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কৌশল ও ব্যর্থতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করলেও, মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছেন—এমন দাবি তিনি গত কয়েক মাসে অন্তত ৩৭ বার করেছেন—কিন্তু বাস্তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান ছিল ‘সমানুপাতিক জবাব’। এই উদ্ধারকাজে মার্কিন নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো ‘সারোনিক করসেয়ার’ নামক সি ড্রোন ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে মার্কিন হামলায় তাদের টেলিযোগাযোগ টাওয়
জেফরি এপস্টিনের নেটওয়ার্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তোলপাড়
জেফরি এপস্টিনের নেটওয়ার্ক ও মডেলিং এজেন্টদের ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের বিশাল নথিপত্র প্রকাশের পর তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নেটওয়ার্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কারাগার থেকে মুক্তির পর এপস্টিন রামসে এল্কহোলির মতো মডেলিং এজেন্টদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যারা বিভিন্ন তরুণীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছে নিয়ে আসত। এল্কহোলি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এপস্টিনের সঙ্গে তরুণীদের পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং এর বিনিময়ে নিজের ক্যারিয়ারের সুবিধা বা আর্থিক লাভের আশা করতেন। যদিও এল্কহোলি দাবি করেছেন যে, তিনি কোনো বেআইনি কাজ করেননি এবং অনেক ক্ষেত্রে ই-মেইলে করা দাবিগুলো ছিল অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা, তবুও মডেল অ্যালায়েন্সের মতো সংস্থাগুলো এই মডেলিং এজেন্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিল গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ও কংগ্রেসের তদন্ত এপস্টিনের নথিপত্র প্রকাশের পর মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বুধবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে হাউস ওভারসাইট কমিটির রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিল গেটস। তদন্তকারীরা মূলত এপস্টিনের সঙ্গে গেটসের ঘনিষ্ঠতার মাত্রা এবং প্রকাশিত কিছু বিতর্কিত ই-মেইল নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ২০১৩ সালের কিছু খসড়া ই-মেইলে এপস্টিন দাবি করেছিলেন যে, তিনি গেটসকে তরুণীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত গোপন তথ্য গোপন রাখতে সাহায্য করেছিলেন। অভিযোগের সত্যতা ও গেটসের অবস্থান বিল গেটস এপস্টিনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ই-মেইলগুলো এপস্টিনের নিজের লেখা এবং
আধুনিক মোড়কে যৌতুক প্রথা: ভারতের বিয়ে শিল্পে লুকিয়ে থাকা এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা
বিয়ের জাঁকজমক ও যৌতুকের নতুন রূপ ভারতে বিয়ের বাজার বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১৩ লাখ কোটি টাকার এক বিশাল শিল্পে পরিণত হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের বিয়ের মৌসুমে রাজকীয় ভেন্যু, ডিজাইনার পোশাক ও আলোকসজ্জার আড়ালে লুকিয়ে থাকছে এক প্রাচীন ব্যাধি—যৌতুক। আধুনিক সমাজে সরাসরি যৌতুক চাওয়ার পরিবর্তে একে এখন ‘উপহার’, ‘সম্মানসূচক নজরানা’ বা ‘মিলনি’র মতো গালভরা নামে আড়াল করা হচ্ছে। সমাজকর্মী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি মূলত একটি আদিম প্রথার আধুনিক ও কুৎসিত রূপান্তর মাত্র। অর্থনৈতিক বোঝা ও সামাজিক সমীকরণ সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে একটি বিয়ের খরচ মেটাতে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণের বোঝা টানতে হয়। এই খরচের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় বরপক্ষকে দেওয়া সোনাদানা, দামি গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং নগদ টাকার পেছনে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বরের পেশাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রি অনুযায়ী তার একটি অলিখিত ‘রেট কার্ড’ তৈরি হয়। অন্যদিকে, কনের ক্ষেত্রে তথাকথিত সামাজিক মানদণ্ড বজায় রাখতে কনেপক্ষকে চড়া মূল্য দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন এই ‘উপহারের প্রদর্শনী’ আভিজাত্য জাহির করার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যৌতুকের বলি ও আইনি সীমাবদ্ধতা যৌতুকের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য নারী। ২০২৪ সালে ভারতে যৌতুক সংক্রান্ত সহিংসতার কারণে ৫ হাজার ৭৩৭ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১৬ জন। সম্প্রতি ভোপালের তিষা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু এই ভয়াবহতাকে পুনরায় সামনে এনেছে; ময়নাতদন্তে তার মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়। ১৯৬১ সালে ভারতে যৌতুক নিষিদ্ধ হলেও আইনের ফাঁকফোকর ও প্রমাণের অভাবে অপরাধীদের শাস্তির হার মাত্র ৩৩ শতাংশ। আই