আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ের সব ফ্লাইট স্থগিত করল ফিনএয়ার
দীর্ঘমেয়াদে ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ফিনল্যান্ডের বিমান সংস্থা ফিনএয়ার তাদের দুবাইগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত হেলসিঙ্কি ও দুবাইয়ের মধ্যে কোনো ফ্লাইট পরিচালিত হবে না। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিনএয়ার জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার কাছাকাছি থাকা বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম চীনের নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র
চীনের নতুন হাইপারসনিক সক্ষমতা ও মার্কিন উদ্বেগের কারণ চীন এমন এক ‘নজিরবিহীন’ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার মাইল দূর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন অস্ত্র আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং এয়ারবোর্ন আর্লি-ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি) বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানও এই হুমকির আওতাভুক্ত। বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে চীনই আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম হাইপারসনিক প্রযুক্তি পরিচালনা ও উন্নয়ন করছে। অস্ত্রের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও কৌশলগত প্রভাব হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল হলো এমন একটি ওয়ারহেড, যা উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে হাইপারসনিক গতিতে চলার সময় দিক পরিবর্তন করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় একে শনাক্ত ও প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে উৎক্ষেপিত এইচজিভি প্রায় ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। এছাড়া, ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জকেও লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণ, যেখানে বর্তমানে ৩ হাজার ১৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সামরিক চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা যদিও এই প্রযুক্তি চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে মোকাবিলার হুমকি চীনের
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা চীনের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, চীন ও ইরানের মধ্যকার সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ও হুঁশিয়ারি গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক একটি নতুন আর্থিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের আওতায় ইরানের তেল বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা যে কোনো দেশ, ব্যাংক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম না নিলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীনা ব্যাংকগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। বাণিজ্যিক প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং ইরানের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ বেইজিংয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, চীন অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই স্বল্পমেয়াদে ইরানের জ্বালানি রপ্তানিতে এই নতুন পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে। এদিকে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
সম্প্রসারিত হচ্ছে ‘মক্কা চুক্তি’: জোটে যোগদানের সম্ভাবনা যাচাই করছে বাংলাদেশ
মক্কা চুক্তির পরিধি বিস্তারের সম্ভাবনা ২০২৬ সালের ৭ই আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র পরিধি অদূর ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নীতিতে প্রতিষ্ঠিত এই চুক্তিতে বর্তমানে সিরিয়া যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং গত সপ্তাহে ইরানকে এই জোটে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও ‘মক্কা চুক্তি’তে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের একজন উপদেষ্টা মুহাম্মদ কবির জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ ও পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা এই জোটে যোগদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। চুক্তির মূলনীতি ও বাংলাদেশের অবস্থান ‘মক্কা চুক্তি’র মূল ভিত্তি হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির পক্ষগুলোর দাবি, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি উদ্যোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশ সম্মিলিত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পাশাপাশি তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পারবে। এছাড়া, পররাষ্ট্রনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি ঢাকার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ হতে পারে। ভারতের উদ্বেগ ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপে নয়াদিল্লি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই জোট দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত মনে করছে এই জোটের সম্প্রসারণ তাদের পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের একাংশ