ভারত

ভারতের সীমান্তে চীনের ১১টি স্টেলথ যুদ্ধবিমান: মোকাবিলায় এক দশক পিছিয়ে ভারত

ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১টি স্টেলথ যুদ্ধবিমান, জবাব দিতে দিল্লির লাগবে এক দশক
আমেরিকান স্পেস ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ভ্যান্টর থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবি। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

ভারতের সীমান্তসংলগ্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে চীন অন্তত ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। আমেরিকান স্পেস ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘ভ্যান্টর’-এর সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের আকাশসীমার কাছাকাছি উচ্চভূমির ঘাঁটি থেকে চীনের পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন আর কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং নিয়মিত সামরিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

চীনের ৫০০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিপরীতে ভারতের শূন্য, ব্যবধান ঘোচাতে পারবে দিল্লি?

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া অবস্থান

চলতি বছরের জুন মাসের শেষ এবং জুলাইয়ের শুরুর দিকে তোলা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, জিনজিয়াংয়ের হোতান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের ডামশুং বিমানঘাঁটিতে চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে। হোতান ঘাঁটিটি লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার এবং ডামশুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি আগে দেখা যায়নি।

ভারতের সক্ষমতা ও চ্যালেঞ্জ

চীনের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ভারতের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই বা মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানগুলো স্টেলথ প্রযুক্তির নয়। ভারতের নিজস্ব প্রথম স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (এএমসিএ) এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত এক দশক সময় লাগতে পারে। সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশির মতে, ভারতের জন্য এখন স্টেলথবিরোধী সেন্সর এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

চীনের দ্রুত বর্ধনশীল বিমানবহর

চীনের জে-২০ যুদ্ধবিমানের উৎপাদন ও সংখ্যা বৃদ্ধির হার অত্যন্ত দ্রুত। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চীনের জে-২০ বহরে প্রায় ৫০টি বিমান থাকলেও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি তা ৩০০ থেকে ৫০০টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের এই উৎপাদন সক্ষমতাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং সুপরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের বর্তমান প্রস্তুতি

চীনের এই হুমকির বিপরীতে ভারত তার বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের হাতে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং আরও ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল ক্রয়ের চুক্তি হয়েছে। তবে বিদ্যমান সুখোই-৩০ এমকেআই বহরের বড় ধরনের আধুনিকায়ন এখনো বাকি রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।