নয়াদিল্লি: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান সংকট ও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি ইতিমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত এই টাস্কফোর্সে ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, আইবির সাবেক পরিচালক তপন ডেকা, আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটিসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। এই কমিটি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) পরীক্ষাপদ্ধতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুপারিশ করবে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ব্যানারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের মুখে সরকার নমনীয় হতে বাধ্য হয়। সিজেপি জানিয়েছে, সরকার তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় তারা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। দাবির মধ্যে রয়েছে পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, সরকার পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। সোমবার সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হবে, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া অনিয়ম-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নয়, বরং ভারতের তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার বহিঃপ্রকাশ। নতুন গঠিত সিজেপি-র এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এক নতুন ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।