বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পরিবেশ নেই
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে আলোচনার কোনো পরিবেশ নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। অস্ট্রিয়ার ওআরএফ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নিজের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জনগণকে রক্ষা করা। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপগুলো আলোচনার পরিবেশ ধ্বংস করেছে এবং কূটনীতিকে ব্যাহত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ইসমাইল বাঘাই সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। বাঘাই আরও বলেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোও তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে তারা ইরানের কাছে ঋণী। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখলেও এই পানিপথকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে দেবে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে, যেখানে ইরান তাদের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংঘাত ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে তেহরানও বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করেছে। গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি ‘বাতিল’ ঘোষণা করেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা দৈনন্দিন হামলার অবসান ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।