নয়াদিল্লি: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের তীব্রতা ও দেশজুড়ে জনসমর্থন বাড়তে থাকায় সরকার চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয় জুন মাসে, যখন শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতে অবস্থান শুরু করেন। ২০ জুলাই শিক্ষার্থীরা সংসদ অভিমুখে ‘সংসদ চলো’ যাত্রা শুরু করলে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশি দমন-পীড়নের সময় কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের পাশাপাশি পেলেট গান বা ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। যদিও দিল্লি পুলিশ শুরুতে পেলেট গান ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছিল, তবে পরবর্তীতে সিআরপিএফ-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) এক জওয়ান অন্তত সাতটি ছররা গুলি চালিয়েছিলেন, যার ফলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। সাহিল লোচাব নামে ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের জবাবদিহি দাবি করেছেন। রাহুল গান্ধী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন, কার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সাদাপোশাকে থাকা ব্যক্তিরা কারা ছিল। বিরোধীরা সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনে এই বিষয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়েও বড় রদবদল আনে। তবে আন্দোলনকারীরা কেবল প্রশাসনিক রদবদলে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন। অবশেষে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) মধ্যে থাকা গভীর ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির দ্রুত জনপ্রিয়তা এবং স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন মোদি সরকারের ডিজিটাল রাজনৈতিক কৌশলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী বছর উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব ও গুজরাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনের আগে এই আন্দোলন বিজেপির ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।