গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইসরায়েলের চলমান অবরোধের কারণে গাজার বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ থাকায় মোহাম্মদ আল-কাহৌজিসহ অসংখ্য আহত সাংবাদিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্যালেস্টিনিয়ান জার্নালিস্ট সিন্ডিকেটের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪০ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী মোহাম্মদ আল-কাহৌজি ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় আল-জাজিরার সাংবাদিক হামজা আল-দাহদৌ এবং মুস্তাফা আবু থুরাইয়া নিহত হন। বিস্ফোরণে কাহৌজির মুখের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাজায় এ পর্যন্ত তাঁর ২৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর সুস্থতার জন্য আরও উন্নত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যা গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়। কাহৌজি জানান, শারীরিক সক্ষমতা ৯০ শতাংশ হারিয়ে ফেলায় তাঁর পেশাগত জীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্যালেস্টিনিয়ান জার্নালিস্ট সিন্ডিকেটের মহাসচিব আহেদ ফারওয়ানা জানিয়েছেন, আহত সাংবাদিকদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ এবং চিকিৎসা শেষে পুনরায় গাজায় ফেরার নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। ফারওয়ানা জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসাসেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার, যা যুদ্ধের অজুহাতে খর্ব করা যায় না।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে ১৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি রোগীর জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন। ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে, চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে বিশেষায়িত চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।