ঢাকা: দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি কাঠামো থেকে সরে এসে ‘মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যভিত্তিক’ নতুন মুদ্রানীতি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই রূপরেখা তুলে ধরেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মুদ্রানীতি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য মুদ্রানীতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সুদের হার বাড়িয়ে বা কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য মূল্যস্ফীতিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে মুদ্রানীতি পরিচালনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামেনি। তবে শুধু সুদের হার নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিনিময় হার ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের ওপরও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা উচ্চ সুদের হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানান এবং ব্যাংক খাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বাধীনতা, নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ হওয়ায় ঋণের সুদ বেশি, যা বিনিয়োগ ও বাজারে অর্থের প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। নতুন কাঠামোতে সুদের হার লক্ষ্য না হয়ে বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য।