উজবেকিস্তান সফরের প্রাক্কালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে দলের উজবেকিস্তান যাত্রার ঠিক আগমুহূর্তে বাফুফের পক্ষ থেকে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও বাফুফে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে দলের সঙ্গে তার না যাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি ঢাকার টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে জেরার্ড জোন্সের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোন্স ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেন এবং বিষয়টি ব্রিটিশ হাইকমিশনকেও অবহিত করেন। এই ঘটনার পর বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনও ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, কর্মক্ষেত্রে তিনি শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং বাফুফেকে আঘাতের ছবিসহ অভিযোগ জানানোর পরও ফেডারেশন থেকে কোনো সমর্থন পাননি। জোন্স বলেন, ‘আমি এখনও নিরাপদবোধ করছি না। এমন একটি দেশে আছি যেখানে প্রতিনিয়ত সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে হচ্ছে।’
সহকারী কোচের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করে জোন্স দাবি করেন, গোলকিপিং কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি বলেও জানান তিনি। এর আগে বেতন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বাফুফের সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে তার পাওনা পরিশোধ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব শুরু হতে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার আগে প্রধান কোচকে ঘিরে এমন নাটকীয় পরিস্থিতি ও বাফুফের নীরবতায় দলের প্রস্তুতি ও পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, জোন্সের অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু দলের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।