ভিডিও

চড়া মূল্যে এলএনজি আমদানি নাকি লোডশেডিং—সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশবাসীকে: তথ্য উপদেষ্টা

চড়া মূল্যে এলএনজি, নাকি সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং— কোনটা ভালো, ভাবতে বললেন উপদেষ্টা
সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন: বিশ্ববাজারে এলএনজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চড়া মূল্যে গ্যাস আমদানি করা হবে, নাকি সহনীয় মাত্রায় লোডশেডিং মেনে নেওয়া হবে—তা নিয়ে দেশবাসীকে ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: তথ্য উপদেষ্টা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ১২ ডলার থেকে বেড়ে ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৩০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে গ্যাসের অভাবে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে এক থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সমব্যথী, তবে বহু বছরের পুঞ্জীভূত অনিয়মের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অচিরেই এলএনজি সরবরাহের সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের ওপর জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ১৭৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস ব্যবহারের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না নিয়ে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমও লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের কারণ নিয়ে নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

অন্যান্য সিদ্ধান্ত: সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানান তথ্য উপদেষ্টা। এই নীতিমালায় রিকশার চলাচল এলাকা, যানবাহনের মান ও চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার বিষয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে সাংস্কৃতিক পরিবেশের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সরকার কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে না বলে তিনি ও তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান নিশ্চিত করেছেন।