জাতীয়

প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ
‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল পিআইডির সম্মেলনকক্ষে। ছবি: পিআইডি

চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ

দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক এবং তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতির অংশ হিসেবেই এই সামরিক কেনাকাটায় মনোযোগী হয়েছে সরকার।

রাজধানীর পিআইডি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জানান, চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কম্বেট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ) জে-১০সিই, অ্যাটাক হেলিকপ্টার (১১২৯), ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জে-১০সিই ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চলতি বাজেট থেকে বরাদ্দ সাপেক্ষে এই কেনাকাটা সম্পন্ন হবে, অন্যথায় তা পরবর্তী বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। চীনের তৈরি যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা ও তুলনামূলক কম মূল্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তা

দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমানে এক থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন পরিশোধের পরিবর্তে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এছাড়া ভোলার গ্যাস ব্যবহারের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য নীতিগত সিদ্ধান্ত

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের কথা জানানো হয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে রিকশার চলাচল এলাকা, কারিগরি মান ও চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে না এবং এ ধরনের ঘটনার হার আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।