হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি নতুন ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা হেফাজতের কাছে জমা দিয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই জোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে।
ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সাতটি দল হলো—জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গত ১৫ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দলগুলোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়নি।
প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা সমঝোতা না রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জমিয়তের পক্ষ থেকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি ‘শতভাগ নিশ্চিত’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরাসরি জামায়াতের নাম উল্লেখ না করলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না করার শর্ত দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’য়াতের আকিদা’ অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে।
বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। খেলাফত মজলিস জামায়াতকে বাদ দেওয়ার পূর্বশর্তের বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি প্রাথমিকভাবে অন্য জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়ে কোনো শর্তারোপের পক্ষে নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও কৌশলগত এই বিভাজনই ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের আদর্শিক বিরোধ রয়েছে, যা এই ঐক্য প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কওমি দলগুলোর বিভিন্ন জোটে অবস্থান নেওয়ায় ভোট বিভাজনের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই হেফাজত এই ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জামায়াতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই মতভেদ নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নতুন জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।