প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বৃদ্ধি: ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে এখন ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ৪৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় হলেও এখনো তিনটি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি।
নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা: প্রকল্পের আওতায় ১০টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের কথা থাকলেও কোনোটিরই নির্মাণকাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। এর মধ্যে চারটি ভবনের অগ্রগতি ৮৮ থেকে ৯৩ শতাংশ, দুটির অগ্রগতি ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ এবং একটির অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ। বাকি তিনটি বিদ্যালয়ের (পূর্বাচল, পূর্ব-নরসিংহপুর ও খিলক্ষেত) নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। জমি সংক্রান্ত জটিলতা, কবরস্থান নিয়ে বিরোধ এবং দরপত্র মূল্যায়নের ধীরগতির কারণে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাজ আটকে আছে বলে জানা গেছে।
ব্যর্থতার কারণ: সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) না করায় জমি নির্বাচন, মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা মোকদ্দমার মতো সমস্যাগুলো আগেভাগে চিহ্নিত করা যায়নি। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি, ভবনের নকশা পরিবর্তন, রেট শিডিউলের অসামঞ্জস্যতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহিদা নাজনীন জানান, ২০১৪ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী ডিপিপি তৈরি হলেও পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিল্ডিং কোড পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে।
জনবল ও প্রশাসনিক সংকট: প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও বিদ্যালয়গুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া প্রকল্পটিতে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালকের অভাব রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রকল্পের নিবিড় তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।