প্রযুক্তি

বোনাস বৈষম্য নিয়ে স্যামসাংয়ের দুই বিভাগে তীব্র অসন্তোষ ও বিভাজন

বোনাসে বিপুল ব্যবধান নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত স্যামসাংয়ের কর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

বোনাস নিয়ে স্যামসাংয়ের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসে সেমিকন্ডাক্টর এবং স্মার্টফোন বিভাগের কর্মীদের বোনাসের বিশাল ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের মুনাফা বহুগুণ বাড়লেও, স্মার্টফোন বিভাগ প্রথমবারের মতো পরিচালন লোকসানের মুখে পড়ায় এই বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বোনাসে ১০০ গুণ ব্যবধান

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২২৩ গুণ বেড়ে ৮৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে এই বিভাগের কর্মীদের বার্ষিক বোনাস স্মার্টফোন ও গৃহস্থালি পণ্য বিভাগের কর্মীদের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি হতে যাচ্ছে। এই বিশাল ব্যবধানের কারণে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স (ডিএক্স) বিভাগের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডিএক্স বিভাগের শ্রমিক ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই বৈষম্য কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত দুই মাসে এই ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা ২ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

অতীতের অবদান ও বর্তমান সংকট

স্মার্টফোন বিভাগের কর্মীদের দাবি, ২০২৩ সালে যখন চিপ ব্যবসা লোকসানে ছিল, তখন স্মার্টফোন বিভাগের আয়ই কোম্পানিকে টিকিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানে মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় স্মার্টফোন বিভাগের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভাগটি লোকসানে পড়েছে। স্যামসাংয়ের কঠোর কর্মদক্ষতাভিত্তিক পুরস্কারনীতিই মূলত এই দুই বিভাগের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং সম্প্রতি কর্মী ও ইউনিয়ন সদস্যদের ‘এক পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কোম্পানির বর্তমান বোনাস নীতি এবং দুই বিভাগের মধ্যকার মুনাফার এই বড় ব্যবধান প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।