সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
আজ ১২ই রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস উপলক্ষে দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র এই দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, রচনা প্রতিযোগিতা এবং জশনে জুলুস বা র্যালি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মহানবী (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মকে সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠানমালা
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ
ইতিহাসের পাতায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। অশিক্ষা, কুসংস্কার ও ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ বা অন্ধকারের যুগে জন্মগ্রহণ করে তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তির অমোঘ বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে তাকে ‘সারা বিশ্বের জন্য রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালিন বা সব নবী ও রাসুলের নেতা হিসেবে তিনি মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।