রংপুর ব্যুরো: রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্তের ভার কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ডিবির পরিদর্শক জিনাত আলী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এদিকে, ময়নাতদন্তের সময় ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়ে হাসপাতালের ডোম এবং চিকিৎসক ও পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডোম জয়তুনের একটি গোপন ভিডিও প্রচার হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্তের সময় আগামী চক্রবর্তীর দেহ থেকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গিয়েছিল এবং চিকিৎসক তাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন। তবে এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ইনচার্জ ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস। তিনি জানান, মাইক্রোবায়োলজিতে পাঠানো সোয়াব পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। একই সুর শোনা গেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীর কণ্ঠেও। তিনিও স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা জানায়, ঘটনার রাতে তারা ইয়াবা সেবন করে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিল। সকালে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় মান-সম্মানের ভয়ে তারা তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর একে একে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং প্রিয়মকে শ্বাসরোধ ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে তারা। সিসি ক্যামেরা বন্ধ করতে তারা বিদ্যুতের লাইনও বিচ্ছিন্ন করেছিল।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, নিহত শিক্ষক ও তার পরিবারের আত্মার শান্তি কামনায় জিলা স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মরণসভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।