প্রথম পাতা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক আগ্রহ

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সোমবার এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অস্বাভাবিক নয় এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও প্রকৃতি

গত ৭ই আগস্ট মক্কার মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্তানুসারে, জোটভুক্ত কোনো দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে তা সকল দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে এবং সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাকিস্তান ও তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে ধারণাগত মিল থাকলেও, প্রকাশিত নথিতে সেনা বা অস্ত্র মোতায়েনের মতো বিস্তারিত সামরিক বাধ্যবাধকতার উল্লেখ নেই।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ভারতের অবস্থান

এই চুক্তিতে ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের উপস্থিতি জোটটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করা না হলেও, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ভারত পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের এই জোটে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে ভারত কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এমনকি গত ৯ই আগস্ট ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফরকেও এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঠেকানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

কূটনৈতিক টানাপড়েন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বর্তমানে কিছুটা টানাপড়েন চলছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনাও বর্তমানে থমকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত চাইছে বাংলাদেশ যেন এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত না হয়, কারণ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একই সামরিক জোটে থাকলে ভারতের প্রতিরক্ষার সমীকরণ বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়বে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।