অর্থনীতি

জুলাই মাসে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় শূন্য ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের, এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি

জুলাই মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, কারা আছে এ তালিকায়

এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি ও শূন্য ব্যয়ের চিত্র

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত ধীর। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে এডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের সমান। চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট বরাদ্দ ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে জুলাই মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা।

জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র: বরাদ্দ পেয়ে এক টাকাও 
খরচ করেনি ১০ মন্ত্রণালয়
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারের ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জুলাই মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। এই তালিকায় রয়েছে শিল্প, বাণিজ্য, ধর্ম, পররাষ্ট্র, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সেতু বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণ

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্পের কার্যাদেশ ও ক্রয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেই সময় অতিবাহিত হয়। সাধারণত অক্টোবর নাগাদ টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের মূল ব্যয় শুরু হয়। এছাড়া বর্ষাকালের কারণে অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে অর্থবছরের সময়কাল এপ্রিল-মার্চে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যয় ও বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বরাদ্দের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (সাড়ে ৭ শতাংশ), সংসদ বিষয়ক সচিবালয় (প্রায় ৭ শতাংশ) এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (সাড়ে ৫ শতাংশ)। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসেবা ও সেতু বিভাগের মতো বড় বরাদ্দপ্রাপ্ত বিভাগগুলো জুলাই মাসে কোনো ব্যয় করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, বরাদ্দ থাকার পরও ব্যয় না হওয়া প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাবকেই নির্দেশ করে।

বাজেট ব্যবস্থাপনায় অন্যান্য চ্যালেঞ্জ

উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির পাশাপাশি সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনাও চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বাড়তি চাপ এবং এলএনজি আমদানির উচ্চমূল্য বাজেট ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলেছে। বিপিসি গত দুই মাসের লোকসান পোষাতে সরকারের কাছে ৭ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ চলতি অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, কৃষি খাতে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে ডিলারদের যোগসাজশ ও তদারকির অভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।