বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এটি বর্তমান সরকারের তৈরি কোনো সমস্যা নয়, বরং আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া একটি ‘উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত’ সংকট। তবে সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক, যেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতা থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার হ্রাস এবং শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসা বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পিপিপি মডেলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সেমিনারে বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরেন। সিপিডি’র বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ব্যবসায়িক হয়রানি বা ‘হয়রানি কর’ কমানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতি আনতে একটি ‘ইকোনমিক রিফর্ম অ্যাক্সিলারেটর ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন।