ঢাকা: বিজ্ঞাপনচিত্রে চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (ইসরাত জাহান)। আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে গত রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে খিলক্ষেত থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগে স্নিগ্ধা চৌধুরী জানান, গত শুক্রবার বিজ্ঞাপনচিত্রের চুক্তির বিষয়ে আলোচনার কথা বলে তাঁকে খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে ‘জেবা টাকিয়া’ নামক অন্য এক নারী ভেবে মারধর শুরু করা হয়। স্নিগ্ধার দাবি, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁর দিকে শটগান তাক করেন, হাত-পা বেঁধে গলা চেপে ধরেন এবং কাঠের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় তাঁকে জোর করে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। স্নিগ্ধা নিজেকে জেবা টাকিয়া নন বলে বারবার জানালেও অভিযুক্তরা তা শোনেননি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আজ বিকেলে বনানীর নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্নিগ্ধা চৌধুরী ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিচার দাবি করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার না পেলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখে যাবেন।
এদিকে, স্নিগ্ধা চৌধুরীর আনা সমস্ত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে আশিয়ান গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই তারা আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন।
আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিচারাধীন বিষয়ে একতরফা অভিযোগ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।