ঢাকা

রাজধানীতে যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যা: চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

যুবদলকর্মী ইউসুফ হত্যায় ৪ আসামি জড়িতের স্বীকারোক্তি
প্রতীকী ছবি

আদালতে স্বীকারোক্তি ও কারাগারে প্রেরণ

রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামির মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ, নাহিদ হাসান ও আবির হাওলাদার হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন ও শাফিন আহমেদকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জিয়ারুল মোল্লা শুরুতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরে তা থেকে সরে আসেন।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াজেদ আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রায়হান হোসাইন সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড ও কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত 'শুটার' চঞ্চল মোল্লাকে গত ২৫ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। চঞ্চল মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত রোববার অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে কাফরুলের ১৩ নম্বর শেরেবাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কাফরুল থানা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবুসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউসুফ আলীর ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তা তার বুকে বিদ্ধ হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা বালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেনও আহত হন। স্থানীয়রা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউসুফ আলী মারা যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা চঞ্চল মোল্লাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।