জাতীয়

২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

বাধ্যতামূলক অবসরের ‘রাতের ভোটের’ যে ৩২ ডিসি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বর্তমানে যুগ্ম সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভোটের সময়ের ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী তাঁদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন।

জানা গেছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই ৩২ জন কর্মকর্তা বিসিএস ২০তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ওএসডি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারার ব্যাপক অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনটি ‘রাতের ভোটের নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকা

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), মো. আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মো. আসলাম হোসেন (কুষ্টিয়া), মঈনউল ইসলাম (নেত্রকোনা), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), মো. শাহরিয়ার (নাটোর), কাজী আবু তাহের (শরীয়তপুর), এ জেড এম নুরুল হক (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মো. মিজানুর রহমান (ময়মনসিংহ), মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), এ কে এম মামুনুর রশিদ (রাঙ্গামাটি), মো. কামাল হোসেন (কক্সবাজার), মো. আব্দুল আহাদ (সুনামগঞ্জ) এবং মো. জসিম উদ্দিন (পাবনা)।

তালিকায় আরও রয়েছেন সরোজ কুমার নাথ (ঝিনাইদহ), মো. শহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), এস এম অজিয়র রহমান (বরিশাল), মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক (ভোলা), মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী (পটুয়াখালী), নাজিয়া শিরিন (নীলফামারী), এস এম আব্দুল কাদের (রাজশাহী), মো. আলী আকবর (মাগুরা), মাহমুদুল কবীর মুরাদ (হবিগঞ্জ), মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ), সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন (নরসিংদী), মোহাম্মদ হেলাল হোসেন (খুলনা), আনার কলি মাহবুব (শেরপুর), মোছা. সুলতানা পারভীন (কুড়িগ্রাম), এস এম ফেরদৌস (মানিকগঞ্জ) এবং গোপাল চন্দ্র দাশ (চুয়াডাঙ্গা)।