রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে আইনগত পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে এবং সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা পাওয়ার পর নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম আলোচনায়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। যেহেতু জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’ থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি। যদিও এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা এখন অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে জোরালো আলোচনা
শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম থাকলেও, শারীরিক প্রতিকূলতাসহ বিভিন্ন বিবেচনায় অনেকে পিছিয়ে পড়েছেন। গত দুই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। দলের ভেতরের একটি অংশ এবং রাজনীতির বাইরের শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে যোগ্য মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহসহ অনেকে তাঁকে এ পদের জন্য সেরা প্রার্থী হিসেবে মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যান্য সম্ভাব্য নাম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এখনো সময় রয়েছে এবং রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত নির্বাচনের আগপর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।