সিএসআর ব্যয়: সব প্রধান খাতেই বড় পতন
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দেশের ব্যাংক খাতে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর (CSR) ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট সিএসআর ব্যয় ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগের ছয় মাসে ছিল ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং এর ফলে মুনাফার ওপর তৈরি হওয়া চাপই এই ব্যয় হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সিএসআর ব্যয়ের প্রধান খাতগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় কমেছে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রশমন-অভিযোজন খাতে, যা আগের তুলনায় ৫৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা খাতে ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ ব্যয় কমেছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ 'অন্যান্য' খাতে ব্যয় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকের ধরনভেদে সিএসআর ব্যয়ে বড় ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা মোট ব্যয়ের ৮৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলো ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ব্যয় করেছে।
ব্যয়কারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক, যারা এই সময়ে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) এবং শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক (১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা)।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা থাকা সাপেক্ষে সিএসআর ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। এর আওতায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ৬০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে অবশিষ্ট ২০ শতাংশ ব্যয় করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে বর্তমানে খেলাপি ঋণের উচ্চ হারের কারণে সামগ্রিক সিএসআর কার্যক্রমে এই বড় ধরনের ভাটা পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।