অর্থনীতি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা: অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, ব্যতিক্রম বিএসইসি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (বিএসইসি) মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিএসএফআইসি ও বিসিআইসির লোকসানের চিত্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএফআইসির করোত্তর ক্ষতির পরিমাণ ৪৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সংস্থাটির আওতাধীন ৯টি চিনিকলের মোট আয় ১ হাজার ১৯৬ কোটি ৮৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলেও ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪২১ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বিসিআইসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট লোকসান হয়েছে ৩০০ কোটি ১১ লাখ টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) তাদের লোকসানের পরিমাণ ছিল ৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

বিএসইসির মুনাফা ও সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বিএসইসির ক্ষেত্রে। অডিট চলমান থাকা অবস্থায় সংস্থাটির মোট আয় ৭১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় ৬৬৬ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এতে তাদের করপূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই লোকসানের বোঝা এবং ব্যাংকঋণের ভারে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই অধিকাংশ সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।