বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি আজ

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর
ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত চুক্তি: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়া শেষে আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আগামী ১৫ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মাশুল আদায় করবে এবং বিনিময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে এককালীন অর্থ ও কনটেইনারপ্রতি নির্দিষ্ট মাশুল প্রদান করবে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পটভূমি ও ইজারার ইতিহাস: ২০০৭ সালে নির্মিত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এনসিটি টার্মিনালটি এতদিন দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০০৮ সালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালে আবুধাবিতে সমঝোতা স্মারক সই হয় এবং ২০২৩ সালে ইজারার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই প্রক্রিয়ায় গতি এলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।

টার্মিনালের গুরুত্ব ও শ্রমিক অসন্তোষ: গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ বা ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার এনসিটির মাধ্যমে হ্যান্ডলিং হয়েছে। এদিকে, এই ইজারার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে 'বন্দর রক্ষা আন্দোলন' ব্যানারে সংগঠিত শ্রমিক-কর্মচারীরা। ইজারা বাতিলের দাবিতে তারা বৃহস্পতিবার বন্দর কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং বুধবার বন্দর এলাকায় মশাল মিছিল করেছে।

বিদেশি অপারেটরের ভূমিকা: ডিপি ওয়ার্ল্ডের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এনসিটি হবে বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। এর আগে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল সৌদি আরবের আরএসজিটি, লালদিয়া টার্মিনাল ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও টার্মিনাল সুইজারল্যান্ডের মেডলগের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বন্দর পর্ষদের সাবেক সদস্য জাফর আলমের মতে, এনসিটির প্রকৃত সুফল পেতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিশেষ করে ধীরাশ্রম অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বিনিয়োগ করলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।