বুয়েনস আইরেস: দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০৮তম এবং শেষ ম্যাচ। ৩-০ গোলের জয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন এই মহাতারকা।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের বিদায়ী ম্যাচকে রাঙিয়ে তোলেন মেসি। এছাড়া দলের অন্য দুটি গোলের পেছনেও ছিল তাঁর অবদান; নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাসের গোল দুটিতে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ম্যাচ শেষে আবেগঘন বিদায়ী ভাষণে মেসি বলেন, ‘আমি জানি, এই মুহূর্তগুলো খুব মিস করব।’
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮টি অ্যাসিস্টের মালিক মেসি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) এবং ফিনালিসিমা ট্রফি জয় করেছেন। তাঁর এই বিদায়কে অমরত্ব দিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ম্যাচে মেসির পরিহিত আইকনিক ১০ নম্বর আর্মব্যান্ডটি দেশটির জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে এবং তাঁর সম্মানে বিশেষ নকশার জার্সি তৈরি করা হয়েছে।
মেসির এই বিদায়ী ম্যাচে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সতীর্থ পাওলো দিবালা ও নাহুয়েল মলিনার। তবে তাদের ক্লাব রোমার কোচ জিয়ানপিয়েরো গাসপেরিনি ব্যস্ত সূচির কারণে তাদের ছাড়পত্র না দেওয়ায় তারা শেষ মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘তাকে ছাড়া দল পরিচালনা করা কঠিন হবে। তার মতো আভা আর কারও মধ্যে দেখিনি।’ মাঠের বাইরে মেসি এখন নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, ক্লাব মালিকানা এবং যুব ফুটবলারদের উন্নয়নে মনোনিবেশ করার পরিকল্পনা করেছেন। বার্সেলোনার উপকণ্ঠের ক্লাব ইউই কর্নেয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ফুটবলের সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মাঝে এক বিষণ্নতা কাজ করছিল। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশজুড়ে মেসির প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে এক অমর উপাখ্যানের সমাপ্তি ঘটল।