অনলাইন

নিজেদের প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক স্বার্থেই এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা: বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পক্ষকে খুশি করার জন্য নয়, বরং নিজেদের প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বুধবার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি কোনো পক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য করা হয়নি। তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেটির ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা ও দেশের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে থাকে। এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের সঙ্গেও ব্যবসা করতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই এবং দেশের স্বার্থে যেকোনো অর্থনৈতিক সুযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উড়োজাহাজকে কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অভিহিত করে হুমায়ুন কবির বলেন, এর মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের নতুন বাজার তৈরি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ শক্তিশালী হয়। এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সহযোগিতাকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।