ঢাকা: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে কেবল চুক্তি নবায়ন নয়, বরং নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী চত্বরে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এই সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এই চুক্তিতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ যুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নদীর নাব্য বজায় রাখতে ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি হলে তা ভারত ও বাংলাদেশ সমানভাবে বহন করবে—এমন শর্ত নতুন চুক্তিতে থাকতে হবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, তবে প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না।’ তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ তা পায়নি। ভারত যদি সত্যিকার অর্থে প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে গঙ্গা ও তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পাদন করতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করছে তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। গঙ্গা চুক্তিসহ সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই এসব চুক্তির বিষয়ে অবস্থান নেওয়া হবে।
স্মরণসভায় আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কথা বলার কারণেই আবরারকে জীবন দিতে হয়েছিল। তিনি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান, মাহফুজ আলম, আবরারের বাবা মো. বরকতউল্লাহসহ এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।