ঢাকা, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পসহ মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি ব্যয়ে ৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা ঠিকাদারকে নিজ খরচে মেরামত করে দেয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যাটারি ব্যাকআপ ৪ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৮ ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যার ফলে প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়, ২য় সংশোধন), বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ, রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ফ্রান্সের প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং খানাটি-রিয়ামারি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত)।
নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, অনেক আগে থেকেই এসব প্রকল্পের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে আরও প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন, যা সভায় অবহিত করা হয়েছে।