ভিডিও

টেকসই নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

টেকসই নদী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ থেকে: নদীভাঙন রোধ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। বুধবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কমিটি পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে। বিশেষ করে চীন ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর একই কাজ করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক খাল খননের পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেশের পানি সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৪১ শতাংশ এলাকা বর্তমানে অতি উচ্চ থেকে উচ্চ মাত্রার পানি সংকটের মুখে রয়েছে। এই তিন জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৯৩টি মৌজা পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে গভীর নলকূপ স্থাপন সীমিত করা, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পানির পুনঃব্যবহার নীতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে।

বৈঠকে ঢাকার চারপাশের চারটি নদীর (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা) দূষণ রোধ ও পানির গুণগত মান পরীক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের পাশাপাশি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের ৫ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য অর্জনে ওয়ারপোর গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চলমান সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।