হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও পরবর্তী সংঘাত
ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত সোমবার নিয়মিত টহলের সময় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, একটি ইরানি ড্রোন হেলিকপ্টারটিতে আঘাত করলে সেটি বিধ্বস্ত হয়। তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা তদন্তাধীন। হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সারফেস ড্রোন (ডুবোযান) ব্যবহার করে দুই ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান
হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। সেন্টকমের তথ্যমতে, ইরানের প্রায় ২০টি নিশানায় এই হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কুয়েত এবং জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিসহ মোট ২১টি মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। জর্ডান ও কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তি ও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। তিনি ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করার হুমকি দিয়ে বলেছেন, বুধবারও মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তি সই না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আলোচনার চেষ্টা
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার তেহরানে পৌঁছেছে যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করা যায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে এবং বিদেশি বাহিনীকে এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াতে চায় না, তবে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।