বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ ও উদ্বোধনী লড়াই
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেক্সিকোর ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজতেকা’ স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা ৩৯ দিন ধরে চলবে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি শহরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে প্রাইজমানির পরিমাণও রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন
এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান তিনটি আয়োজক দেশে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। মেক্সিকো সিটির আজতেকায় শাকিরা, টরন্টোতে নোরা ফাতেহি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে কেটি পেরিসহ আন্তর্জাতিক তারকারা পারফর্ম করবেন। প্রতিটি অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও থিমকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্মরণে প্রতিবাদের ডাক
বিশ্বকাপের উৎসবের আবহের মধ্যেই মেক্সিকোর নারী অধিকার সংগঠনগুলো এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের পরিকল্পনা করেছে। দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দর্শকসংখ্যার চেয়েও বেশি। সরকারি উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং নিখোঁজ স্বজনদের বিচারের দাবিতে নারী অনুসন্ধানকারী দলগুলো রাজধানীজুড়ে বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছে।
মেক্সিকোর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
মেক্সিকোতে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাম পার্ডোর নেতৃত্বে ‘নারীদের যুগ’ চলছে। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ‘সাবস্ট্যান্টিভ ইকুয়ালিটি ডিক্রি’ পাসসহ নারী মন্ত্রণালয় গঠন এবং বিচারব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন। তবে আইনি সুরক্ষা ও পার্লামেন্টে ৫০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও, মাদক কারবারি চক্রের সহিংসতা এবং নারী হত্যার মতো ঘটনা দেশটিতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতি
আজতেকার মাঠে নিজেদের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর মেক্সিকানরা। কোচ হাভিয়ের আগুইরের অধীনে দলটি তাদের পুরনো ‘পঞ্চম ম্যাচের অভিশাপ’ কাটাতে মরিয়া। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস তার দলকে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে বিবেচনা করে কাউন্টার-অ্যাটাক কৌশলে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামটি পেলে ও ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিদের স্মৃতি বহন করছে, যেখানে আজ নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই শুরু করবেন।