ইরানের কৌশল ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছেন যার লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাব বলয় থেকে দূরে সরিয়ে আনা। পেজেশকিয়ানের দাবি, ইরানের শত্রুরা আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার যে চেষ্টা চালিয়েছিল, বর্তমান নেতৃত্বের কৌশলের কারণে তা ব্যর্থ হচ্ছে।
জিসিসির তীব্র নিন্দা ও দায়ভার
ইরানের এই কূটনৈতিক কৌশলের বিপরীতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের ওপর ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জিসিসি বলেছে, এসব হামলার সম্পূর্ণ দায়ভার তেহরানকেই নিতে হবে। সংস্থাটির মতে, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর (বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা।
আন্তর্জাতিক আইন ও আত্মরক্ষার অধিকার
জিসিসি এই হামলাগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার ওপর আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যক্তিগত ও সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এই হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরানের প্রতিপক্ষ দেশটির অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তবে সংকটের মুহূর্তে দেশের জনগণ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের ওপর হামলা এবং তাদের হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একদিকে অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রভাব কমানোর কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের এই সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।