জাতীয়

স্বীকারোক্তি আদায়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ প্রসিকিউটর জোহার বিরুদ্ধে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
১০ জুন ২০২৬, ২২: ১৫
স্বীকারোক্তি আদায়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ প্রসিকিউটর জোহার বিরুদ্ধে

স্বীকারোক্তি আদায়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার বিরুদ্ধে। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এই অভিযোগ করেছেন। তবে এ সময় প্রসিকিউটর তানভীর জোহা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা একজনকে গুলি, একজনকে গুলি করে হত্যা এবং একটি শিশুকে গুলি করলে তা মাথার এক পাশে লেগে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে তার দাদির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের মামলার প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে এই তিন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলার ৫ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে ৪ মার্চ রায় ঘোষণা হয়নি। ওই দিন প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে বলেছিল, এ মামলায় আরও ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স দাখিল করবে। সে কারণে সময় চায় প্রসিকিউশন।

পুনরায় জবানবন্দিতে আজ বুধবার চঞ্চল চন্দ্র সরকার বলেন, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে ওসি (যে থানা থেকে চঞ্চলকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেই থানার ওসি) তাঁকে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর একজন পুরুষ ও একজন নারী সেখানে প্রবেশ করেন। সেই পুরুষ লোকটি ওসির কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। নিজেকে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা পরিচয় দেন। নারীটিকে তাঁর হবু স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।

চঞ্চল চন্দ্র সরকার বলেন, এরপর জোহা বলেন, তিনি যা বলবেন, তা তাঁকে (চঞ্চলকে) স্বীকার করতে হবে। তখন চঞ্চল চন্দ্র বলেন, তিনি রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা ব্যক্তিকে গুলি করেননি। সে সময় জোহা তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন এবং তাঁর কথামতো স্বীকারোক্তি দিতে বলেন। তবে রাজি না হলে জোহা চঞ্চলকে ভয়ভীতি দেখান। তাতেও রাজি না হলে চঞ্চলকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। তাতেও রাজি না হলে জোহা চঞ্চলের নিকটাত্মীয়-স্বজনকে হত্যার হুমকি দেন।