বিশ্বজমিন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন ঝুঁকি

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: এএফপি

সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই ঘটনার জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি, জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিত বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের ফাঁদ এড়িয়ে যেভাবে ফের যুদ্ধ শুরু ঠেকালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কৌশল ও ব্যর্থতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করলেও, মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করেছেন। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছেন—এমন দাবি তিনি গত কয়েক মাসে অন্তত ৩৭ বার করেছেন—কিন্তু বাস্তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি।

৩৭ বার ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তির’ দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর দাবি ট্রাম্পের, বাস্তবতা ভিন্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান ছিল ‘সমানুপাতিক জবাব’। এই উদ্ধারকাজে মার্কিন নৌবাহিনী প্রথমবারের মতো ‘সারোনিক করসেয়ার’ নামক সি ড্রোন ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে মার্কিন হামলায় তাদের টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা হামলায় ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে, যদিও এর নিরপেক্ষ কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা

এই সংঘাত নিয়ে চীন ও রাশিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এদিকে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান যদি শান্তি আলোচনায় গড়িমসি করে, তবে তাদের আরও ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি : এএফপি

আঞ্চলিক অস্থিরতা

হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত অচল হয়ে আছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। একই সময়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান একে কারিগরি ত্রুটি বলছে, তবে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম একে গুলিবর্ষণের ফলে ভূপাতিত হওয়ার দাবি করেছে। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।