অর্থনীতি

মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ও জিডিপির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ও জিডিপির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

রেকর্ড উচ্চতায় দেশের অর্থনীতির আকার ও মাথাপিছু আয়

দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। আগের অর্থবছরে (২০২৩–২৪) এই আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় ২৫১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার বেশি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সাল নাগাদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, চলতি অর্থবছরে তার অর্ধেক অর্জিত হলো।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি

বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে (২০২৪–২৫) প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প খাতে তা হ্রাস পেয়েছে।

অর্থনীতির ইতিবাচক সূচকের পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদ্বেগের তথ্যও উঠে এসেছে। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিনিয়োগ কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মাথাপিছু আয় ও জিডিপি সম্পর্কে ধারণা

বিবিএস জানিয়েছে, মাথাপিছু আয় বলতে কোনো ব্যক্তির একক আয়কে বোঝায় না; এটি দেশের অভ্যন্তরের আয় ও প্রবাসী আয়সহ মোট জাতীয় আয়কে জনসংখ্যার অনুপাতে ভাগ করে প্রাপ্ত গড় আয়। অন্যদিকে, জিডিপি হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত সকল পণ্য ও সেবার চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য।