জেলা

‘থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা ‘ধাওয়া খেয়ে’ আশ্রয় নিলেন থানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ২৩: ৫৩
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া দিয়েছেন। পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। আজ বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনায় ঘটেনি। মাহাদী হাসান ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা।

এ বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন এই ছাত্রনেতা জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’ এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন।

‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’
‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’

মাহাদী হাসান আজ বিকেল পাঁচটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোক বলেন, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ এনে তাঁর প্রশংসা করেন। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী সহজভাবে নেননি বলে তাঁর দাবি।

আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে গত ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এসে ওসিকে হুমকি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে গত ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এসে ওসিকে হুমকি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আজ দুপুরে মাহাদী হাসান ফেসবুক লাইভে এসে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি একটি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করেন। ভিডিওতে মাহাদীর সঙ্গে ইজিবাইকে আরেকজনকে দেখা যায়। তাঁরা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, মাহাদী যখন থানায় যান, তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থানায় উপস্থিত ছিলেন না। মাহাদী ডিউটি অফিসারকে জানান তাঁকে ধাওয়া করার বিষয়টি। তখন ডিউটি অফিসার একজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে থানার ফটক পর্যন্ত এসে কাউকে দেখতে পাননি। মাহাদী বেলা দুইটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন। খবর পেয়ে বেলা আড়াই দিকে ওসি থানায় এলে তাঁকে এ বিষয়ে বলেন মাহাদী।

মাহাদীর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনটির জেলা সভাপতি রাজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মীর ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সে ভিডিও লাইভ করলেও কারা তাকে দৌড়াচ্ছে, সেই দৃশ্য কেন সে ধারণ করেনি? এতে প্রমাণিত হয় সে পুরো ঘটনাটি সাজিয়েছে। তাকে কেউ ধাওয়া করেনি। এটা তার সাজানো নাটক।’

হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মাহাদী হাসানের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের ভিডিও ক্যামেরা যাচাই-বাছাই করেছে। কিন্তু অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁরা ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরাও এ ধরনের দৃশ্য দেখেছেন বলে কেউ জানাননি। তবে ওই ছাত্রনেতা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ আরও তদন্ত করে দেখবে বলে জানান ওসি।

‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা আটক
‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা আটক