ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা চীনের
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, চীন ও ইরানের মধ্যকার সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
মার্কিন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ও হুঁশিয়ারি
গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক একটি নতুন আর্থিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের আওতায় ইরানের তেল বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা যে কোনো দেশ, ব্যাংক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম না নিলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীনা ব্যাংকগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়।
বাণিজ্যিক প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং ইরানের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ বেইজিংয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, চীন অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই স্বল্পমেয়াদে ইরানের জ্বালানি রপ্তানিতে এই নতুন পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে। এদিকে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই নতুন উত্তেজনা আসন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
নতুন এই নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানও প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই ‘আরেকটি পরাজয়’ বয়ে আনবে।